মারিয়ানাস ওয়েব সম্পর্কিত সব গোপন তথ্য

غير معرف
ম্যারিয়ানাস ওয়েব পৃথিবীর রহস্যময় গুপ্ত তথ্য ভান্ডার।

ম্যারিয়ানাস ওয়েব কি জিনিস তা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে ওয়েভ বা ইন্টারনেটের তথ্যভান্ডার সম্পর্কে জানতে হবে। ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারকে মুলত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা..... সারফেস ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব।

সারফেস ওয়েবঃ ইন্টারনেটের যেসব তথ্য সবার জন্য সম্পূর্ন ফ্রি, এবং সবার জন্য উন্মুক্ত সেগুলো থাকে সারফেস ওয়েভে। আমরা গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেসব তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করতে পারি তা সবই সারফেস ওয়েবের অন্তর্ভুক্ত।

ডিপ ওয়েবঃ  ইন্টারনেটে থাকা ব্যাক্তিগত তথ্য, প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত তথ্য, সিকিউরিটি ব্যাবস্থা যুক্ত তথ্য সমূহ হচ্ছে ডিপ ওয়েবের অন্তর্ভুক্ত। ডিপ ওয়েবের তথ্য যে কেউ চাইলেই ব্রাউজ করতে পারবে, তবে এর এক্সেস আপনার কাছে থাকতে হবে। ডিপ ওয়েবের তথ্য গুগলে ইনডেক্স হয় না। এই ওয়েবের তথ্য গুলো সিকিউরিটি ব্যাবস্থা দ্বারা নিরাপদ করে রাখা হয়। অফিস আদালতের গুরুত্বপূর্ন তথ্য, সরকারি তথ্য, ব্যাক্তিগত গোপনে সংরক্ষিত তথ্য ইত্যাদি সবই ডিপ ওয়েবে জমা থাকে। এই ডিপ ওয়েবের তথ্যকে হ্যাকাররা চাইলে হ্যাক করতে পারে। ডিপ ওয়েবের আকার খুবই বড়, ইন্টারনেট জগতের ৮০% তথ্যই ডিপ ওয়েবে সংরক্ষিত থাকে।

ডার্ক ওয়েবঃ এটি হচ্ছে ডিপ ওয়েবেরই উচু মাত্রার সিকিউরিটি যুক্ত অংশ। ডার্ক ওয়েবের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা খুবই শক্তিশালী। একে তৈরি করা হয়েছে তথ্যকে হ্যাকারদের নাগালের বাহিরে রাখতে। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের তথ্য, অতি গুরুত্বপূর্ন সরকারি তথ্য, অতি গুরুত্বপূূর্ন গবেষণা, রিসার্চের তথ্য, সহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ন ও অতি সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে সংরক্ষিত থাকে। এমনকি বড় বড় মাফিয়া গ্রুপও ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে নিজেদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। ডার্ক ওয়েবে সব রকম অবৈধ কার্যকলাপ চলে। এখানে যে কেউ খুনী ভাড়া করতে পারে, মাদক এর পাচার /কেনাবেচা করতে পারে। আরও হয় পর্নোগ্রাফী, মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি ইত্যাদি সব অবৈধ এক্টিভিটি।

এই ডার্ক ওয়েব হ্যাক করা ভয়াবহ কঠিন হলেও হ্যাক যে হয়না তা কিন্তু নয়। ২০১৭ সালে চীনা হ্যাকাররা আমেরিকান ডার্ক ওয়েবের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা হ্যাক করে F-35 স্টিলথ ফাইটারের অতি গুরুত্বপূর্ন টেকনোলজি সম্পর্কিত ৯৩ জিবি তথ্য হাতিয়ে নিয়ে যায়।

এতো গেলো সারফেস ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েবের পরিচিতি। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, এই ডার্ক ওয়েবের চেয়েও আরো অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী সিকিউরিটি যুক্ত একটি তথ্য ভান্ডার রয়েছে, যার নাম ম্যারিয়ানাস ওয়েব। এই ম্যারিয়ানাস ওয়েবের সিকিউরিটিকে কেবল 'অনেক শক্তিশালী' বললে কম হয়ে যায়। বলা উচিত ভয়াবহ, অকল্পনীয় শক্তিশালী। 

ম্যারিয়ানাস ওয়েব হলো ইন্টারনেটের এক রহস্যময় অন্ধকার জগৎ। এটি ইন্টারনেটের সবচেয়ে গভিরতম স্থান, এর পরে আর কিছুই নেই। মারিয়ানা ওয়েবের নামটি এসেছে মারিয়ানা ট্রেঞ্জ থেকে। মারিয়ানা ট্রেঞ্জ হল প্রশান্ত মহাসাগর এর সবচেয়ে গভীর তম স্হান [গভীরতা প্রায় ১১ কি.মি]। এটি সমুদ্রের এমন একটি স্হান যা পুরো পৃথিবীর সবচাইতে গভীরতম স্হান। এই নাম থেকেই এর নাম হয়েছে মারিয়ানা'স ওয়েব।

ম্যারিয়ানাস ওয়েবকে কারা তৈরি করেছে, কিভাবে তৈরি করেছে, কাদের কাছে এই ওয়েবে ঢুকার এক্সেস রয়েছে তা সম্পূর্ন অজানা। তবে ধারনা করা হয় একে পরিচালনা করে ইল্যুমিনাতির সদস্যরা [শয়তানের পূজারী]। তারা ম্যারিয়ানাস ওয়েভে তাদের সমস্ত তথ্য সংরক্ষন করে রাখে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

ম্যারিয়ানা ওয়েব  সম্পর্কে আগে সাধারন জনগন কিছুই জনতো না। কিন্তু অতি সাধারন একটি ঘটনার মাধ্যমে ম্যারিয়ানা ওয়েবের কথা জনসম্মুখ্যে প্রকাশ হয়ে যায়। ঘটনাটা ছিলো এরকম....... 

কয়েক বছর আগের কথা; একজন সাধারন ওয়েব ডেভেলপার কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ব্রাউজ করছিলো। তার কাজ হলো টাকার বিনিময়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করা। ব্রাউজিং এর এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে একজন লোক অপ্রত্যাশিত রকম উচ্চ মুল্যের একটি কাজ অফার করে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো যেই ব্যাক্তিটি এই কাজটি অফার করেছিলো তার আইডির নাম ছিলো '450w' [হয়ত কোনো কোডনেইম]।

রহস্যজনক ব্যাক্তিটি ওয়েব ডেভলাপার ব্যাক্তিটিকে জাস্ট একটা ওয়েবসাইটকে রি-ডিজাইন করানোর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৫০ হাজার ডলার দেয়ার অফার করে! তখন ওই ওয়েব ডেভেলপার এর মনে হয় এটা নিস্চই কোন স্ক্যাম বা ধোকাবাজির মত কিছু হবে হয়তবা, কারন সাধারন একটা কাজের জন্য এত বিশাল অংকের অর্থ কেউ কখনোই দিতে চাইবে না। তবু তার টাকার দরকার ছিলো বলে  অর্ডারটি সে নিয়ে নিল। 

রহস্যময় ব্যাক্তিটি সেই ওয়েব ডেভেলপারকে একটি প্রাইভেট সার্ভারের ভেতর একটি ওয়েবসাইট রি-ডিজাইনের কাজ করতে দেয়। কাজের প্রয়োজনে রহস্যময় লোকটি তাকে ওই সার্ভারের কিছু কিছু স্থানের এক্সেস দিয়েছিলো। 

প্রায় ৯ সপ্তাহ ধরে কাজটি চলেছিলো। পুরো ব্যাপারটিই ছিলো অদ্ভুত ধরনের। রহস্যময় লোকটি তার সাথে কোনো কথা বলতো না, সুধু কাজের অগ্রগতি দেখতো। এভাবে কাজ করতে করতে একটা সময় তার জানার ইচ্ছা জাগল যে, সে কোন সার্ভারে কি কাজ করছে। তার কাছে ওই সার্ভারের কিছু অংশের এক্সেস ছিল, সেই জায়গা গুলোতে সে ভিজিট করা শুরু করে। এভাবে ভিজিট করতে করতে সে ওই সার্ভারে অদ্ভুৎ, অবিশ্বাস্য ধরনের অনেক কন্টেন্ট দেখতে পায়। মানুষের উপর বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট এবং তার ফলাফল সহ অনেক ধরনের রহস্যময় কন্টেন্ট ছিলো সেখানে। এমনকি ওই সার্ভার থেকে সে কিছু ফাইলও ডাউনলোড করে নেয়।

ফাইলগুলোর ভেতরে কিছু ভিডিও ক্লিপও ছিলো। কমেন্টে সেই ভিডিও ক্লিপের ২টি অংশ দিয়েছি। একটি ভিডিও ক্লিপে কিছু বাইনারি কোডও দেয়া ছিলো। ভিডিও এর শেষে সেই বাইনারি কোডগুলোকে ডিকোড করে দেয়া হয়েছে।

ম্যারিয়ানা ওয়েবে কিভাবে ঢুকা যায়...?

যেকোনো সাধারন কম্পিউটার থেকেই চাইলে ম্যারিয়ানা ওয়েবে ঢোকা যাবে। তবে এর জন্য অবশ্যই ম্যারিয়ানা ওয়েবের এড্রেস এবং এক্সেস আপনার কাছে থাকতে হবে।  তবে এক্সেস যদি না থাকে, তাহলে ঢুকার কথা চিন্তা করেও লাভ নেই। এখানে সাধারন কোন এথিক্যাল বা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারের কোন স্হান নেই। কারন ম্যারিয়ানা ওয়েব প্রাইভেট সার্ভারে সংরক্ষিত, তাই এর এড্রেস খুজেই পাওয়া যাবে না। যার এড্রেসই পাওয়া যায়না, তাকে হ্যাক করাও প্রশ্নাতিত। আজ পর্যন্ত কোনো হ্যাকারই ম্যারিয়ানা ওয়েবে ঢুকার ক্ষেত্রে সফল হয়নি। 

আর এখানে আপনার করার মত কোন কিছুও নেই। তাই সাধারন মানুষের মারিয়ানা'স ওয়েব নিয়ে ঘাটাঘাটি, ঢোকার চেষ্টা  বা এসবের ভেতর না জড়ানোটাই ভালো।

ম্যারিয়ানা ওয়েব কি হ্যাক করা সম্ভব...?

হ্যা, তাত্বিক ভাবে ম্যারিয়ানা ওয়েবকেও হ্যাক করা যাবে। তবে তার জন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো একটি আল্ট্রা এডভান্স কম্পিউটার সিস্টেমের থিউরি। এর প্রোসেসিং স্পীড আমাদের সাধারন কম্পিউটার থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশী শক্তিশালী। সাধারন কম্পিউটার যেখানে বাইনারি ম্যাথোডে কাজ করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে কোয়ান্টাম ম্যাট্রিক্সের উপর ভিত্তি করে। পেন্টাগন বা নাসার কাছে থাকা বিশ্বের সেরা সুপার কম্পিউটার গুলোও কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাছে খেলনা সমতুল্য। জেনে অবাক হবেন যে, মাত্র ৪টি কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সম্পূর্ণ আমেরিকার কম্পিউটারের চাহিদা পূরন করা সম্ভব!

একমাত্র কোয়ান্টাম কম্পিউটার দ্বারাই বিশ্বের সমস্ত সার্ভার ঘেটে ম্যারিয়ানা ওয়েবের এড্রেস খুজে বের করে তার অতি শক্তিশালী সিকিউরিটি ব্যাবস্থা ধ্বংস করে তার এক্সেস গ্রহন করা সম্ভব হবে।

তবে আসল কথা হলো, কোয়ান্টাম কম্পিউটার একটা থিউরি মাত্র, এখনো এটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে গুগল এই ধরনের একটি কম্পিউটার বানিয়েছিলো, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেছে এটা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাতারে পরেনা।

বিশ্বে মাত্র ৪ টি দেশ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মানের ক্ষেত্রে একটু একটু সাফল্য পেতে শুরু করেছে। বাকিরা সবাই গবেষণা আর স্টাডির ভেতরেই সীমাবন্ধ। সেই ৪টি দেশ হচ্ছে জাপান, চীন, আমেরিকা এবং ইরান।

ধন্যবাদ।

© ইন্টারনেট

Getting Info...

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.