বিপদে পড়লে টিকটিকি লেজ ফেলে পালায় কেন? এবং হারানো লেজ আবার ফিরে পায় কীভাবে?

غير معرف


টিকটিকি নিয়ে কমন প্রশ্নগুলো ৷

★ বিপদে পড়লে টিকটিকি কেন লেজ ফেলে পালায় এবং হারানো লেজ আবার কীভাবে ফিরে পায়?
★ টিকটিকির লেজ খসে পড়ে লাফায় কেন?
★ টিকটিকি গায়ে পড়লে শুভ না অশুভ?
★ খাবারে টিকটিকির লেজ বা মল পড়লে মানুষ মারা যায় কেন?
★ টিকটিকি ঠিক ঠিক বললে তা কতোটা ঠিক?
★ গায়ে পড়লে শুভ না অশুভ?

বন্ধুরা আমি নীরব চলুন আর বেশি কথা না বাড়িয়ে কাজের কথায় আসি...

মোটামুটি আমরা সবাই কম বেশি দেখেছি, টিকটিকি বিপদে পড়লে লেজ ফেলে পালায়। এই লেজ ফেলে পালানোর মূল কারণ হচ্ছে, যদি কোনো প্রাণী টিকটিকিকে আক্রমণ করে তখন সে নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে এই কাজটা করে। আক্রমণকারিকে বিভ্রান্ত করে পালিয়ে যাওয়া এই কাজের মূল উদেশ্য। একে অটোটমি বলে মানে হচ্ছে স্ব-ভজনা। 

আর মজার ব্যাপার হচ্ছে সব টিকটিকি তার লেজ ফিরে পায় না। যারা ফিরে পায় তাদের হয়ত কিছু সপ্তাহ বা ২ মাসের মত লাগে প্রজাতি অনুযায়ী। আর এই লেজ ফিরে পায় লেজ এর সেল এ টিস্যু জন্মানোর কারণে যেটাকে বিজ্ঞানীরা কমপ্লেক্স রিজেনারেশন স্ট্রাকচার বা জটিল পুনর্জন্ম গঠন বলেছেন।

টিকটিকির লেজ খসে পড়ে লাফায় কেন?
একটা টিকটিকি ধরতে গেলেন, দেখলেন যে টিকটিকি আপনার হাতে লেজটা রেখে পালিয়েছে আর লেজটা জীবন্ত প্রাণীর মত লাফাচ্ছে।

লেজ রেখে শত্রুকে ধোকা দিয়ে পালানোর এ কৌশলকে বলা হয় Caudal Autotomy. লেজের এভাবে নড়াচাড়া কারণ হচ্ছে লেজে সৃষ্ট কিছু নার্ভ ইমপাল্স যেটা লেজের পেশীকে নড়াচড়ার সংকেত দেয় । বিচ্ছিন্ন লেজ এলোমেলো ভাবে নড়াচড়া করতে থাকে আর শিকরী সেদিকে মনযোগী হয়, এই সুযোগে সে পালিয়ে যায় ।

খাবারে টিকটিকির লেজ বা মল পড়লে মানুষ মারা যায় কেন? টিকটিকি ঠিক ঠিক বললে তা কতোটা ঠিক? গায়ে পড়লে শুভ না অশুভ?

সাধারণ গৃহ টিকটিকি (Hemidactylus Frenatus) যা একেবারেই নির্বিষ বা বিষাক্ত নয়। টিকটিকি চেনে না এমন মানুষ নেই! পৃথিবীতে প্রায় সব দেশেই টিকটিকি পাওয়া যায়। তবে এই নিরীহ উপকারী প্রাণীকে নিয়ে মানুষের কুসংস্কার ভ্রান্ত ধারণা ও ঘেন্নার শেষ নেই।এদের সম্মন্ধে একটা বদনাম আছে এরা নাকি ভয়ঙ্কর বিষাক্ত! খাবারে পড়লে তো আর রক্ষা নেই সরাসরি পটলডাঙ্গার টিকিট কাটতে হবে। এমনকি এদের মলও নাকি মারাত্মক বিষাক্ত! একটা কথা বলি কখনো জীবনবিজ্ঞান বইতে পড়েছেন টিকটিকি বিষাক্ত বা খবরের কাগজে পড়েছেন টিকটিকির মলের কারণে মৃত্যু হয়েছে? টিকটিকি বিষাক্ত না হলেও আমাদের কাছে তা অখাদ্য তাই ঘেন্না থেকে বমি হতে পারে এছাড়াও ভয় থেকে খিঁচুনি, গা গোলানো, মাথা ঝিমঝিম করতে পারে! যেমন নির্বিষ সাপ কামড়ালেও শুধুমাত্র ভয়ের কারণেই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু হয় মানুষের তেমনই তা টিকটিকির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য!

টিকটিকি বিষাক্ত নয় বুঝলাম! কিন্তু তার মলেও কি বিষ নেই? অনেকে যে বলে টিকটিকির মলে সাদা অংশটাই নাকি বিষাক্ত?

না সেটাও বিষাক্ত নয় ওই সাদা অংশটা আসলে ইউরিক এসিড! এই এসিড আমাদের রক্তের থাকে রেচন পদার্থ হিসেবে। আমাদের রক্তে ইউরিক এসিড বাড়লে গেঁটে বাত হয়। টিকটিকির মলে থাকা সামান্য ইউরিক এসিড অন্ততঃ মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে না।



তবে সাধারণ সব সরীসৃপের মতো টিকটিকির শরীরেও সালমোনেলা জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। সেই খাবার খেয়ে বমি ও ডাইরিয়া হতে পারে। তবে সব টিকটিকির গায়েই যে সালমোনেলা থাকবে এমন ভাবারও দরকার নেই আর খাবারে পরে যদি টিকটিকি সেদ্ধই হয়ে যায় তবে তার জীবাণুরও মৃত্যু হয়! সালমোনেলা বড়োদের জন্য খুব মারাত্মক না হলেও বাচ্চাদের জন্য ভয়ানক! তাই খাবারে টিকটিকি, ব্যাঙ পড়লে সন্দেহ হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়াও বাচ্চারা ব্যাঙ, শামুক ধরলে ভালো করে হাত ধুতে বলুন কারণ এরাও এই ব্যাকটেরিয়া বহন করে। টিকটিকি খুবই উপকারী প্রাণী ওরা প্রচুর মশা খেয়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, ফাইলেরিয়া, এনকেফেলাইটিস ইত্যাদি মশাবাহিত রোগ ও মাছি বাহিত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই আমরা টিকিটিকি-কে দোষ দেওয়ার আগে নিজের খাবার সব সময় ডেকে রাখবো! শুধু টিকটিকি নয় কোন পোকামাকড় খাবারে পড়ুক কেউই চায় না তাই আমরা যদি একটু সতর্ক হই তাহলেই সমস্যা মিটে যায়। 

টিকটিকি ঠিক ঠিক বললে তা কতোটা ঠিক?
আসলে টিকটিকি টিক টিক শব্দকেই আমরা ঠিক ঠিক ধরে নিয়েছি! এরা এই আওয়াজ টা করে অন্য টিকটিকি ও সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে ও নিজের এলাকা রক্ষার জন্য অন্য টিকটিকিদের সতর্ক করতে এবং বাচ্চারা থ্রেট অনুভব করলে এরকম আওয়াজ করে! তাতে মানুষের কথার মাঝখানে এই আওয়াজ করে ফেললে আমরা টিকটিকি-কেই আদালতের জর্জ ভেবে নিই, ভাবি ওরা সব জানে! আরে কাকু! ওরা আমাদের ভাষা বোঝে না! আমরা ইয়া বড়ো মস্তিস্ক নিয়েও ওদের ভাষা বুঝতে পারি না! ওদের মস্তিস্ক তো একটু খানি ওরা কি করে বুঝবে!

টিকটিকি গায়ে পড়লে শুভ না অশুভ?
জ্যোতিষ শাস্ত্রে ও বাস্তুশাস্ত্রে টিকটিকি নিয়ে অনেক গাঁজাখুঁড়ি কথাই আছে যেমন বলা হয় টিকটিকি আপনার হালহকিৎ অনেক আগেই বলে দিতে পারে। না ওই ইঙ্গিত দিতে পারে আর কি! যেমন খেতে বসলে টিকটিকির শব্দ শুনলে আপনার শুভকিছু হবে আবার স্বপ্নের মধ্যে মৃত টিকটিকি দেখলে আপনার ক্ষতি হবে। পায়ের উপর টিকটিকি পড়লে আপনার শরীর খুব খারাপ হবে এই ধরণের হাজারো কথা হয় যা নির্ভেজাল কুসংস্কার ছাড়া কিছুই নয় এবং বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।

সূত্র:-
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Common_house_gecko
https://bn.quora.com/bipade-parale-tikatiki-kena-leja-phele-palaya-ebam-harano-leja-abara-kibhabe-phire-paya/answers/144732385
http://www.iitk.ac.in/nerd/web/articles/know-your-gecko/#.Xaiy0rfhWDY
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Salmonellosis
https://en.m.wikipedia.org/wiki/Common_house_gecko
https://www.thesprucepets.com/gecko-tail-loss-and-regrowth-1238769
http://www.reptilesmagazine.com/Lizards/Information-News/How-Do-Lizards-Regrow-Their-Tails-Researchers-Have-Found-the-Answer/

সৈজন্য:ProDokan.com
লেখকঃ Nur Md Nirob

Getting Info...

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.