গিগ আপডেট করার উপকারিতা এবং অপকারিতা

غير معرف
fiverr gig update


আসসালামু আলাইকুম। আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। আর যারা নিয়মিত ট্রিকবাজের সাথে থাকেন তাদের ভালো থাকারই কথা। কেননা, এখান থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক অজানা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিপস এবং ট্রিকস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। আমি আজকে আপনাদের সাথে গিগ আপডেট করার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আলোচনা করবো। তাই আর দেরি না করে চলুন শুরু করি।

একটা প্রশ্ন এবং তার সম্ভাব্য সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য উত্তর।

প্রশ্নঃ- আমি আমার ফাইবার গিগ এডিট (ডিলিট নয়) করতে চাচ্ছি যেমনঃ- টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ইমেজ অথবা ভিডিও। আমার কি র‍্যাংকিংয়ে প্রব্লেম হবে/হারাবে?

উত্তরঃ- ইন্ডেক্সেশন নামে একটা বিষয় আছে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে এই বিষয়টি আগে বুঝতে হবে।

ধরেন কেউ যদি বলে যে আজকে গুগল আমার ওয়েবসাইটের একটা পেজ ইনডেক্স করছে এর সহজ সরল মানে হচ্ছে গুগল তার ডাটাবেজে ওই ব্যক্তির ওয়েবসাইটের একটি পেজ সংরক্ষণ/সেভ করেছে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

এখন প্রতিটা বড় ওয়েবসাইট বা মার্কেটপ্লেসে যাই বলেন না কেন তাদের নিজস্ব ইন্ডেক্সেশন সিস্টেম আছে। ফাইবার অনেক বড় ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস টাইপ ওয়েবসাইট। তাদের এই ইনডেক্সের জন্য নিজস্ব একটি সিস্টেম বা বট/স্ক্রলার আছে।

গুগলের বট যেভাবে কাজ করে সেম ভাবে যে ফাইবারের বট কাজ করবে এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নাই। উভয়ের কাজের মধ্যে একটা কমন বিষয় হচ্ছে নতুন নতুন ডাটা যার যার সার্ভারে ইনডেক্স/সংরক্ষণ করা।

গুগলের বট এবং ফাইবারের বট কোন কোন নির্দিষ্ট বিষয়কে ইনডেক্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে এইটা গুগল বা ফাইবার আমাদেরকে বলে না। এইটা অলওয়েজ সিক্রেট একটা বিষয়।

আপনি যদি আপনার গিগে কাজ না পান তাহলে গিগ সম্পূর্ণ ডিলেট করতেই পারেন। সেই ক্ষেত্রে এই র‍্যাংকিং নিয়ে মাথা ঘামানোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

যদি আপনার গিগ পুরানো হয় অলরেডি ভালো র‍্যাংকিংয়ে থাকে এবং আপনি ভালো কাজ পাচ্ছেন কিন্তু তারপরে চাচ্ছেন যে গিগটা আরেকটু ঘষা-মাজা করতে অথবা র‍্যাংকিংয়ে আরো একটু ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে তাহলে কি হবে।

আসেন আপনাকে লজিক্যালি বিষয়টা বুঝাই। যদি উপরের অংশ পড়ে থাকেন তাহলে নিশ্চই আপনার এই ইনডেক্সিং বিষয়ে ধারণা পানির মতো ক্লিয়ার হয়ে গেছে।

আপনার গিগ ৩০-এ ছিল এডিট করে দেখলেন যে গিগ চলে গেছে ৭০-এ এর কারণ কি? কারণ হচ্ছে আপনার গিগ পূর্বে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের জন্য র‍্যাংকিংয়ে ৩০-এ ছিল যেহেতু আপনি এডিট করেছেন তাই ওই নির্দিষ্ট র‍্যাংকিং ফ্যাক্টরের জন্য আপনার গিগের র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব পড়েছে যেহেতু আপনি এডিট করেছেন বা মুছে দিয়েছেন তাই ফাইবারের বট আপনাকে পূর্বের র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলার জন্য আপনার গিগকে র‍্যাংকিং থেকে নামিয়ে বা ডাউন গ্রেড করে দিয়েছে।

এইটা হচ্ছে সাইন্স এইটা নিয়ে মাতা-মাতি করার কিছু নাই। এখন আসল বিষয় হচ্ছ --> ভাই ৩০-থেকে ৭০-এ চলে গেলাম তার কি হবে?

আপনি যদি প্রপার ওয়েতে গিগ অপ্টিমাইজ করেন এবং এনালাইসিস করে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে গিগ নতুন ভাবে সাজান তাহলে একটা ম্যাজিক ঘটবে সেটা হচ্ছে আপনি ৩০-থেকে ৭০-এ যাওয়ার কিছুদিন পরে আবার লাফ দিয়ে ১০/২০-এর মধ্যেও চলে আসতে পারেন মানে উন্নতি ঘটবে। আপনি কত উপরে যাবেন সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা ভালো-ভাবে গিগ অপ্টিমাইজ করেছেন সেটার উপরে।

এখন এই প্রথমে কেন গিগ র‍্যাংকিং হারিয়ে পিছনে যায় সেটা তো বললাম এবার জেনে নিন যে কেন আপনার গিগ আবার জাম্প করে সামনে চলে আসবে।

বেশির ভাগ এক্সপার্টদের মতে এই বট/ক্রলার গুলা যার যার সার্ভার থেকে ডাটা মুছে দিতে কার্পণ্য করেনা বা দ্রুত গতিতে করে তবে ইন্ডেক্সেশনের ক্ষেত্রে তারা অনেক গুলা র‍্যাংকিং ফ্যাক্টর দিয়ে নতুন ডাটাকে বিশ্লেষণ করে এই জন্যই মূলত আপনি র‍্যাংকিং দ্রুত হারান এবং ফিরে পেতে একটা নির্দিষ্ট টাইম লাগে। বট/ক্রলারগুলার ডাটা বিশ্লেষণ করে র‍্যাংকিং দেয়ার ক্ষেত্রে নূন্যতম ১৪-দিন লাগে সর্বোচ্চ কত দিন লাগে এই বিষয়ে একেকজন এক্সপার্টের মতামত একেক রকম তাই আমি ওই তথ্য ইনক্লুড করলাম না।

উপরে যা বললাম সব এক্সপার্টদের কথা আমি জাস্ট আমার নিজের ভাষায় বললাম। এই বিষয়টা নিয়ে অনেকই না জেনে নিজেদের মনগড়া ভিত্তিহীন ইনফরমেশন দেয়।

Last but not least --> UPDATE এই শব্দটার সাথে সবাই নিশ্চই কমবেশি পরিচয় আছে জাগতিক সবকিছু প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। আপডেট মানেই এত বেশি উন্নত এত বেশি যুগোপযোগী আরো বেশি কার্যকরী। আপনি আপনার গিগের --> টাইটেল, ডেসক্রিপশন, ইমেজ বা ভিডিও এডিট করবেন আপডেটের করার জন্য এবং এইটা অধিক গ্রহণযোগ্য, পরীক্ষিত এবং প্রমাণিত।

উদাহরণঃ-
Top 10 best back-linking methods that work.
Top 10 best back-linking methods that work updated [2020]
আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

তথ্য সূত্রঃ-
  • নেইল প্যাটেল। (ডিজিটাল মার্কেটিং কিং)
  • ডারা ওয়ালস। (ডিজিটাল মার্কেটার)
  • চেস রেইনার। (এসইও অডিট কিং)
  • নাথান গচ। (এসইও হেভিওয়েট)
  • সাশা মিলার + জ্যাক মিলার। (ফাইবার মিলিওনিয়ার)
  • এলেক্স জিনাদিনীক। (ফাইবার মিলিওনিয়ার আর ওনার পরিচয় দিলে ৩-দিন যাবৎ লিখতেই হবে)
  • থিও ম্যাকআর্থার। (এই জগৎে কিংবদন্তি)
  • থ্রী-বাগস-মিডিয়া। (লোকাল এসইও কিং)

উপরোক্ত সকলের আমি ছাত্র।।

এবং
  • ম্যাট কাটস।
  • ড্যানি সুলিভ্যান।
  • র‍্যান্ড ফিসকিন।
  • ব্রায়েন ডিন। (এসইও কিং এই বসকে না চিনলে বর্তমানে ফ্রীল্যান্সার হিসেবে আপনার ১৪ আনাই বৃথা)

আরো আছে
  • ভেনেসা ফক্স।
  • বিল সালাওকি।
  • ব্যারী স্টুয়ার্টস।
  • ল্যারি কিম।

উপরে যাদের নাম বললাম তাদের সবাই লাইফে কোনো না কোনো সময়ে বিশ্বের বড় বড় ব্রান্ডের (গুগল, এমাজন, এ্যাপেল,ফেসবুক, আলিবাবা ইত্যাদি) হয়ে কাজ করেছেন, অনেকেও এখনো করছেন এবং অনেকেই ভবিষ্যতেও করবেন। অনেকেই আবার নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরী করেছেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

লেখকঃ মোঃ আলম

Getting Info...

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.