MS DOS কি? MS DOS কেনো ব্যবহার করা করা হতো? MS-DOS পরিচিতি

RONiB

السلام علىكم و رحمة الله

হ্যালো গাইজ! কেমন আছেন সবাই? আশা করি আপনারা সকলে আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। আর ভালো না থাকলে তো ভালো লাগার ওয়েবসাইট TrickBD আছেই। যেখান থেকে আমরা নিত্য নতুন টিপস-এন্ড-ট্রিকস পেয়ে যাই।

তো যাই হোক, আজকে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি তা আপনারা ইতিমধ্যে উপরিউক্ত টাইটেল দেখেই জেনে গেছেন।

অপারেটিং সিস্টেম হলো একটি সফটওয়্যার, যা কম্পিউটারের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এটা শুধু কম্পিউটারের মেমোরি আর প্রসেসর সাথে নয়, বরং সমস্ত সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার কে ম্যানেজ করে।

আজকের আর্টিকেলে আমি MS-DOS অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করব। তো আর কথা না বলে সোজা আজকের টপিকে চলে যাই।

MS-DOS কি?

MS-DOS এর পুরো নাম Microsoft Disk Operating System । MS-DOS একটি ক্যারেক্টার ইউজার ইন্টারফেস অপারেটিং সিস্টেম (CUI) । যা ব্যবহারকারীর কমান্ডের দ্বারা হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে কার্য সম্পাদন করে। এটি মাইক্রোসফট কম্পানির সর্বপ্রথম অপারেটিং সিস্টেম। তবে এটি মাইক্রোসফট নিজে তৈরি করে নি। বরং আইবিএম কম্পানি এটি তৈরি করে। অতঃপর মাইক্রোসফট তা কিনে নেয়। এটি বর্তমান সময়ের অপারেটিং সিস্টেমের মতো এতো সহজ ছিলো না। ব্যবহারকারীর কমান্ডের উপর ভিত্তি করে কাজ করতো। যেভাবে কমান্ড দেওয়া হতো সেভাবে কাজ করতো। এতে প্রোগ্রামিং করা অনেক কঠিন ছিল।

MS-DOS এর ইতিহাস

MS-DOS, বা মাইক্রোসফট ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম, হল একটি কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম যা ১৯৮০-এর দশকে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রাথমিক যুগে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এটি একটি কমান্ড-লাইন ইন্টারফেস (CLI) ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম, যার অর্থ ব্যবহারকারীদের কম্পিউটারে কাজ করতে টেক্সট-ভিত্তিক কমান্ড লিখতে হত। গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) এর আগে, MS-DOS ছিল কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেমের একটি প্রধান পদ্ধতি।

MS-DOS-এর ইতিহাস শুরু হয় ১৯৮১ সালে, যখন মাইক্রোসফট আইবিএম-এর জন্য তাদের প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার (PC) তৈরির জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে। এটি মূলত সিয়াটেল কম্পিউটার প্রোডাক্টস থেকে কেনা QDOS (Quick and Dirty Operating System) কে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। মাইক্রোসফট আইবিএম-এর সাথে একটি চুক্তি করে এবং MS-DOS কে আইবিএম PC-এর সাথে বান্ডিল করে বিক্রি করে। আইবিএম PC-এর জনপ্রিয়তার সাথে সাথে MS-DOS দ্রুতই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেমে পরিণত হয়।

MS-DOS এর বৈশিষ্ট্য

MS-DOS-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর সরলতা এবং হালকা ওজন। এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার রিসোর্সের উপর খুব কম চাপ ফেলে, যা এটিকে সেই সময়ের সীমিত হার্ডওয়্যার ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটারের জন্য উপযুক্ত ছিল। ব্যবহারকারীরা ফাইল ম্যানেজমেন্ট, প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন, এবং হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন সহ বিভিন্ন কাজের জন্য কমান্ড লিখে MS-DOS ব্যবহার করত। কিছু সাধারণ কমান্ডের মধ্যে ছিল `DIR` (ডিরেক্টরি তালিকা দেখানোর জন্য), `CD` (ডিরেক্টরি পরিবর্তন), এবং `COPY` (ফাইল কপি করা)।

MS-DOS-এর সীমাবদ্ধতাও ছিল। এটি মাল্টিটাস্কিং সমর্থন করত না, অর্থাৎ একবারে একটির বেশি প্রোগ্রাম চালানো সম্ভব ছিল না। এছাড়াও, এর কমান্ড-লাইন ইন্টারফেস নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য শেখা কঠিন ছিল, বিশেষ করে যারা কম্পিউটারে অভিজ্ঞ ছিলেন না। ১৯৯০-এর দশকে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের আবির্ভাবের সাথে MS-DOS এর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে শুরু করে। উইন্ডোজ একটি গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস অপারেটিং সিস্টেম ছিল। যা ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক বেশি ব্যবহারযোগ্য এবং সহজবোধ্য ছিল।

MS-DOS কেনো ব্যবহার করা হত

MS-DOS ছিল ১৯৮০-এর দশকের শেষে এবং ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য প্রধান অপারেটিং সিস্টেম। এই সিস্টেমটির কিছু বিশেষত্ব এবং কারণ ছিল, যা MS-DOS কে জনপ্রিয় করে তুলেছিল এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করেছিল:

  • কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সোজাসুজি সম্পর্ক: MS-DOS সরাসরি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিল।
  • কম্পিউটিং মেমোরির দক্ষ ব্যবহার: MS-DOS একটি লাইটওয়েট অপারেটিং সিস্টেম ছিল, যা কম মেমোরি ব্যবহার করে চলত।
  • বেশি কমান্ডের সুবিধা: এটি দ্রুত কাজ সম্পাদন করতে পারত এবং কমান্ড ইনপুটের মাধ্যমে কার্যক্রম দ্রুত পরিচালিত হত।
  • কম খরচ: এটি সহজ এবং কম খরচে ব্যবহৃত ছিল, বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য।
  • পোর্টেবিলিটি এবং সঙ্গতি: MS-DOS বিভিন্ন হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্মের জন্য পোর্টেবল ছিল।
  • সফটওয়্যার সমর্থন: MS-DOS এর জন্য প্রচুর পরিমাণে সফটওয়্যার তৈরি হয়েছিল।
  • বিশ্বস্ততা এবং স্থিতিশীলতা: এটি একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল সিস্টেম ছিল।
  • প্রথম দিকের গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের আগমন: MS-DOS উইন্ডোজের ভিত্তি ছিল, যার মাধ্যমে উইন্ডোজ সিস্টেমের বিকাশ ঘটেছিল।

MS-DOS এর ইন্টার্নাল কমান্ড

ইন্টার্নাল কমান্ড হলো সেগুলি যেগুলি MS-DOS-এর অংশ হিসেবে বিল্ট-ইন থাকে এবং সিস্টেমের শুরুতেই লোড হয়ে যায়। এই কমান্ডগুলি সিস্টেমের অপারেশন কন্ট্রোল করতে ব্যবহৃত হয় এবং একে একে রেট করা হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্নাল কমান্ডের মধ্যে রয়েছে:

  • DIR: ফোল্ডার বা ডিরেক্টরির ভিতরের ফাইলগুলো দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: DIR C:\Documents
  • COPY: ফাইল কপি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: COPY file1.txt D:\Backup\
  • DEL: ফাইল মুছে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: DEL file1.txt
  • REN: ফাইলের নাম পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: REN oldfile.txt newfile.txt
  • CLS: কমান্ড প্রম্পটের স্ক্রীন পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: CLS
  • CD: ডিরেক্টরি পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: CD C:\Program Files
  • MD: নতুন ডিরেক্টরি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: MD C:\NewFolder
  • EXIT: MS-DOS সেশনের সমাপ্তি করতে ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: EXIT

MS-DOS এক্সটার্নাল কমান্ড

এক্সটার্নাল কমান্ড হলো সেগুলি যেগুলি সিস্টেমের বাইরে থেকে পৃথক এক্সিকিউটেবল ফাইল হিসেবে কাজ করে। এই কমান্ডগুলি সিস্টেমের মধ্যে লোড হয় না, বরং মেমরিতে লোড হয় যখন তাদের প্রয়োজন হয়। এক্সটার্নাল কমান্ডগুলি সিস্টেমের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন বিশেষ কাজ করতে সাহায্য করে। কিছু সাধারণ এক্সটার্নাল কমান্ডের মধ্যে রয়েছে:

  • FORMAT: ডিস্ক ফরম্যাট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: FORMAT A:
  • CHKDSK: ডিস্কের ত্রুটি চেক করতে ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: CHKDSK C:
  • DISKCOPY: একটি ডিস্কের কপি তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: DISKCOPY A: B:
  • XCOPY: বড় পরিসরে ফাইল কপি করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: XCOPY C:\Documents D:\Backup\ /E
  • LABEL: ডিস্কের লেবেল বা নাম পরিবর্তন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: LABEL A: NewDisk
  • TREE: ডিরেক্টরি স্ট্রাকচার দেখানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: TREE C:\
  • DEBUG: প্রোগ্রাম ডিবাগ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
    উদাহরণ: DEBUG

উপসংহার

সংক্ষেপে, MS-DOS হল কম্পিউটিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং আধুনিক অপারেটিং সিস্টেমের ভিত্তি স্থাপনে সাহায্য করেছে। যদিও এটি এখন আর ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তবুও এর উত্তরাধিকার আজও কম্পিউটিং জগতে জীবিত রয়েছে।য়েছে, যা MS-DOS-এর ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এছাড়াও, কিছু পুরনো সফ্টওয়্যার এবং গেমস চালানোর জন্য MS-DOS এখনও ব্যবহৃত হয়।
















The post MS DOS কি? MS DOS কেনো ব্যবহার করা করা হতো? MS-DOS পরিচিতি appeared first on Trickbd.com.



from
https://trickbd.com/operating-system/3022388

Getting Info...

إرسال تعليق

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.